কম্পিউটার পেরিফেরালস ও উইন্ডোজ পরিচিতি
কম্পিউটারে দক্ষতার সাথে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ইনপুট/আউটপুট ডিভাইস এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম Microsoft Windows সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। নিচে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
১. Keyboard ও Mouse পরিচিতি
কিবোর্ড ও মাউস হলো কম্পিউটারের প্রাথমিক ইনপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী সরাসরি সিস্টেমকে নির্দেশনা দেয়।
Keyboard (কিবোর্ড)
কিবোর্ডে সাধারণত ১০১ থেকে ১০৫টি কি (Key) থাকে। কাজের সুবিধার জন্য এগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- Alphanumeric Keys: বর্ণ (
A-Z) এবং সংখ্যা (0-9) টাইপ করার জন্য।
- Function Keys: কিবোর্ডের একদম উপরের সারির
F1 থেকে F12 পর্যন্ত কি, যা বিভিন্ন সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট শর্টকাট হিসেবে কাজ করে (যেমন: F1 দিয়ে Help, F5 দিয়ে Refresh)।
- Numeric Keypad: কিবোর্ডের ডানপাশের ক্যালকুলেটর সদৃশ অংশ, যা দ্রুত গাণিতিক হিসাব ও সংখ্যা টাইপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- Control / Modifier Keys:
Ctrl, Alt, Shift, Windows Key—এগুলো অন্য কি-এর সাথে সমন্বয় করে শর্টকাট কমান্ড হিসেবে কাজ করে।
- Navigation Keys: কার্সার উপরে-নিচে ও ডানে-বামে নেওয়ার জন্য Arrow Keys,
Home, End, Page Up, Page Down ইত্যাদি।
নিয়মিত ব্যবহৃত কিছু প্রয়োজনীয় কিবোর্ড শর্টকাট:
Ctrl + A → Select All
Ctrl + C → Copy
Ctrl + X → Cut
Ctrl + V → Paste
Ctrl + S → Save
Ctrl + Z → Undo
Alt + F4 → Close Active Window / Shut Down
Mouse (মাউস)
মাউস হলো একটি পয়েন্টিং ডিভাইস যা দিয়ে স্ক্রিনের কার্সার নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- Left Button (বাম বাটন): কোনো ফাইল, ফোল্ডার বা অপশন নির্বাচন (Select) করতে Single Click এবং চালু (Open) করতে Double Click করা হয়।
- Right Button (ডান বাটন): কোনো ফাইলের Properties, Context Menu বা অতিরিক্ত অপশন দেখতে একবার ক্লিক করতে হয়।
- Scroll Wheel (স্ক্রোল হুইল): ওয়েব পেজ বা লম্বা ডকুমেন্টের উপর-নিচ ব্রাউজ করার জন্য মাঝের চাকাটি ঘুরিয়ে স্ক্রোল করা হয়।
২. Monitor, Printer, Scanner পরিচিতি
Monitor (মনিটর)
মনিটর হলো প্রধান ভিজ্যুয়াল আউটপুট ডিভাইস।
- প্রকারভেদ:
- LCD (Liquid Crystal Display): কম বিদ্যুৎ খরচ করে ও স্পষ্ট ছবি দেয়।
- LED (Light Emitting Diode): আধুনিক ও উজ্জ্বল ডিসপ্লে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
- OLED / IPS Panel: কালার এক্যুরেসি ও ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনে উপযোগী।
- কানেকশন পোর্ট: HDMI, DisplayPort (DP), VGA।
Printer (প্রিন্টার)
কম্পিউটারের ডিজিটাল ডেটাকে কাগজে ছাপিয়ে হার্ডকপি তৈরি করার আউটপুট ডিভাইস।
- Inkjet Printer: তরল কালি (Liquid Ink) স্প্রে করে প্রিন্ট করে। সাধারণ ছবি ও রঙিন প্রিন্টের জন্য ভালো।
- Laser Printer: শুষ্ক টোনার পাউডার (Toner) এবং লেজার রশ্মি ব্যবহার করে। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং অফিস-আদালতে টেক্সট প্রিন্ট করার জন্য সেরা।
- Dot Matrix Printer: রিবনের ওপর পিন আঘাত করে প্রিন্ট করে। মূলত রসিদ, চালান ও ক্যাশ মেমোতে ব্যবহৃত হয়।
Scanner (স্ক্যানার)
কাগজে থাকা কোনো ছবি বা টেক্সটকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করার জন্য ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস।
- Flatbed Scanner: সাধারণ কাঁচের প্লেটের ওপর ডকুমেন্ট রেখে স্ক্যান করা হয়।
- Sheet-fed Scanner: একসাথে একাধিক পৃষ্ঠা ফিডারের মাধ্যমে দ্রুত স্ক্যান করা যায়।
- Handheld Scanner / Barcode Scanner: বারকোড বা কিউআর কোড পড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
ডিভাইসগুলোর সারসংক্ষেপ
| ডিভাইস | ডিভাইসের ধরন | মূল কাজ |
|---|
| Keyboard | Input | লেখা ও কমান্ড ইনপুট দেওয়া |
| Mouse | Input | স্ক্রিনে পয়েন্ট ও ফাইল নির্বাচন করা |
| Scanner | Input | হার্ডকপি ডকুমেন্টকে ডিজিটালে রূপান্তর করা |
| Monitor | Output | ভিজ্যুয়াল রেজাল্ট প্রদর্শন করা |
| Printer | Output | ডিজিটাল ফাইলকে কাগজে ছাপানো |
৩. Windows পরিচিতি
Microsoft Windows হলো বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত GUI (Graphical User Interface) ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম।
উইন্ডোজের মূল উপাদানসমূহ
- Desktop (ডেস্কটপ): কম্পিউটার চালু হওয়ার পর স্ক্রিনে যে প্রাথমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিবেশ দেখা যায়।
- Icons (আইকন): ডেস্কটপে থাকা ছোট ছোট ছবি বা প্রতীক যা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম, ফাইল বা ফোল্ডার নির্দেশ করে (যেমন: This PC, Recycle Bin)।
- Taskbar (টাস্কবার): স্ক্রিনের নিচের দিকের লম্বা বার। এতে থাকে:
- Start Menu: সব ইনস্টল করা সফটওয়্যার ও পাওয়ার অপশন (Shut Down, Restart)।
- Pinned Apps: দ্রুত ওপেন করার জন্য রাখা পছন্দের অ্যাপের শর্টকাট।
- System Tray / Notification Area: ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, সাউন্ড কন্ট্রোল, ওয়াই-ফাই এবং ব্যাটারি স্ট্যাটাস।
- File Explorer: কম্পিউটার ড্রাইভ (
C:, D:), ফোল্ডার ও ফাইল ম্যানেজ করার মূল অ্যাপ্লিকেশন (Win + E শর্টকাট দিয়ে ওপেন হয়)।
- Recycle Bin: কম্পিউটার থেকে সাময়িকভাবে ডিলিট করা ফাইল জমা রাখার জায়গা, যেখান থেকে ফাইল পুনরায় পুনরুদ্ধার (Restore) করা সম্ভব।
নিজে চেষ্টা করুন (মূল্যায়ন)
১. কিবোর্ডের Function Keys কোনগুলো এবং এগুলোর কাজ কী?
২. মাউসের Left Click এবং Right Click-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
৩. Inkjet এবং Laser Printer-এর মূল পার্থক্য কী?
৪. স্ক্যানারকে কেন ইনপুট ডিভাইস বলা হয়?
৫. উইন্ডোজ টাস্কবারের মূল অংশগুলো কী কী?
৬. ফাইল পার্মানেন্ট ডিলিট এবং রিসাইকেল বিনে পাঠানোর মধ্যে তফাৎ কী?